free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » মাটি কাটার টাকা নিজে খেতে মহিলা মেম্বার দুঃস্থের নাম কেটে ঢুকালেন ইপিজেডকর্মীকে

মাটি কাটার টাকা নিজে খেতে মহিলা মেম্বার দুঃস্থের নাম কেটে ঢুকালেন ইপিজেডকর্মীকে

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: 
হতদরিদ্র জনগণকে মঙ্গা তথা কর্মহীনকালে আর্থিক সহযোগীতার জন্য গৃহিত সরকারী প্রকল্প ৪০ দিনের কর্মসূচির অধীনে মাটিকাটা কাজের টাকা নিজে খাওয়ার জন্য মহিলা মেম্বার লটারীর মাধ্যমে কাজ পাওয়া লোকদের তালিকা থেকে দুঃস্থের নাম কেটে ঢুকিয়েছেন একজন ইপিজেডকর্মী স্বচ্ছল নারীর নাম। এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য দায়িত্ব নেয়া ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুমানা বেগম।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সোনাখুলী নলছাপাড়ায় গেলে দেখা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা ও পার্শবর্তী জিয়ার বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান তার ছাদ পেটানো একতলা পাকা বাড়ির সামনে তিনটি গরুকে খাবার দিচ্ছেন।
এসময় তিনি বলেন, মহিলা মেম্বার রুমানা বেগম তাকে মাটি কাটার কাজের জন্য একজনের নাম দিতে বলেন। তিনি ছোট বোন তাহেরা বেগম দরিদ্র হওয়ায় তার নাম দেন। কিন্তু বোনের নামে কার্ড করে দিতে পারেনি মহিলা মেম্বার। বোনের বাড়ি ৯ নম্বর ওয়ার্ডে হওয়ায় সম্ভব হয়নি বলে জানান।
 
এমতাবস্থায় গত শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) মহিলা মেম্বার আবার জানান, ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার হাসানুর চৌধুরী তাঁকে একটা কার্ড দিয়েছে। তবে ৮ নং ওয়ার্ডেরই কোন মানুষের নাম দিতে হবে। যার নামে কার্ড হবে সে জানবেও না, কাজও করা লাগবেনা এবং টাকাও পাবেনা। এই কার্ডের টাকা তিনিই (মহিলা মেম্বার) তুলে খাবেন।
আব্দুল মান্নান আরও বলেন, মহিলা মেম্বার এর বিনিময়ে ভবিষ্যতে বোনের কার্ড করে দেয়া সহ আমার মাধ্যমে লোক নেয়া হবে এমন সুবিধা দিবেন বলে কথা দেন। এই শর্তের প্রেক্ষিতে অনেক ভেবে অন্য কারো এনআইডি কার্ডের ফটোকপি না দিয়ে মহিলা মেম্বারকে নিজ স্ত্রীরটা দিয়ে সহযোগীতা করেছি। আমার স্ত্রী নুর বেগম নীলফামারী উত্তরা ইপিজেড’র কর্মী।
বিষয়টি ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাসানুর চৌধুরীকে মোবাইলে জানালে তিনি বলেন কার্ডটা মহিলা মেম্বারকে দিয়েছি। তিনি কার নাম দিয়েছেন তা আমার জানা নেই। স্বচ্ছল কাউকে দিয়ে থাকলে সেটা তাঁর ব্যাপার।
 
মহিলা মেম্বার রুমানা বেগমকে মোবাইল করলে তিনি প্রথমে বিষয়টা এড়িয়ে যান এবং তাঁর পাশে থাকা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ময়নুল ইসলামকে মোবাইলটি ধরিয়ে দেন। ময়নুল ইসলাম বলেন, ইপিজেড কর্মীর নাম দিয়েছে তো কি হয়েছে? আপনারা এগুলো নাড়াচাড়া করে কিছুই করতে পারবেন না বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
 
পরে মহিলা মেম্বারের সাথে তাঁর বাড়ির সামনে দেখা হলে তিনি বলেন, নুরী বেগমকে কার্ডটা আমিই দিয়েছি। এতোদিনতো এভাবেই চলছে। তাতে কোন সমস্যা হলোনা। অথচ আপনারা আমার পিছেই লাগলেন। বেশ নিউজ করেন। কি হয় দেখবো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু হাসনাত সরকার মোবাইলে বলেন, অনিয়ম তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। লটারীর মাধ্যমে তালিকায় স্থান পাওয়া কোন হতদরিদ্র বাদ পড়ে থাকলে তাদের পূনর্বহাল করা হবে। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের বাদ দেয়া হবে।
জানা যায়, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৩৯ জন করে হতদরিদ্রকে ৪০ দিনের কর্মসূচির জন্য লটারীর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে প্রায় ১২৫ জনকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান মেম্বাররা নিজেদের পছন্দের লোককে ঢুকিয়েছে।
অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাঁরা স্বচ্ছল ব্যক্তিকে কাজ দেয়াসহ এরকম ভুয়া নাম দিয়ে জনপ্রতি দৈনিক ৪ শ’ টাকা হারে ১৬ হাজার টাকা নিজেদের পকেটস্থ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাটিকাটার কাজ উদ্বোধনকালে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়েন মেম্বার চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন।
চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন মাদক বিরোধী অভিযানের নামে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর বাড়িতে ঢুকে তার অনুপস্থিতিতে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। মামলাও করবেন বলে জানা গেছে।
বুধবার ভিজিডি’র চাল দিতে সুবিধাভোগী ৭১৬ জনের কাছ থেকে ২০ টাকা করে আদায় করেছেন।
এদিকে মহিলা মেম্বার রোমানা স্বামীহারা বিধবা হওয়ায় জনগণের কাছে কান্নাকাটি করে ভোট নিয়ে নির্বাচিত হয়েই মাটিকাটার টাকা খাওয়ার বন্দবস্ত করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের মন্তব্য, মাত্র কয়েকদিন হলো নতুন পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে। অথচ তাতেই তাঁরা নানা অনিয়ম শুরু করে দিয়েছেন। মাটিকাটার নাম বাদ দেয়া সংযোজন করা নিয়ে বেপরোয়া স্বেচ্ছাচারি আচরণ করেছেন।
এটা ইউনিয়নবাসী কখনই আশা করেনি। এত লোভী হলে তাদের কাছ থেকে কতটুকু সেবা পাওয়া যাবে তা নিয়ে আমরা খুবই হতাশ ও উদ্বিগ্ন। তারা এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *