free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » দ্বন্দ্ব মেটাতে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কেটে নিজ হেফাজতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

দ্বন্দ্ব মেটাতে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কেটে নিজ হেফাজতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
বন্ধকি জমি জাল দলিল তৈরী করে দখলের অভিযোগে চাচা ও ভাতিজাদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব মেটাতে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কেটে নিজ হেফাজতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান। সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতে আদালতের রায় বা স্থানীয়ভাবে মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পর যারা প্রকৃৃত মালিক সাব্যস্ত হবেন তারা এই ধান পরবর্তীতে বুঝে পাবেন। বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের মধ্য বাগিচাপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, মৃত খোকা মামুদের ছেলে সাবেক ইউপি মেম্বার আফাজ উদ্দিন জীবিত থাকাকালে ৩০ শতক জমি ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ধক দেন ছোট ভাই কাবুলের কাছে। তাঁর মৃত্যুর পর ভাতিজা আশরাফুল, গোলাপ ও শরিফুল টাকা দিয়ে জমি ফিরিয়ে নিতে চাইলে চাচা কাবুল তা মেনে না নিয়ে উল্টো জমিটি কিনে নিয়েছে বলে জানায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়।

দীর্ঘ ২৮ বছর থেকে দখলে রাখা ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে এবার আমন আবাদ করেছে কাবুল। সেই ধান কাটতে বাধা দেয়ার প্রেক্ষিতে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে গেলে কাগজ দেখাতে বলায় কাবুল দেখাতে ব্যর্থ হয়। এরফলে মালিকানার বিষয় নির্ধারণে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এসময়ে উভয়পক্ষকে জমিতে না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় এবং ধান যাতে নষ্ট না হয় তাই তা কেটে পরিষদে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ ও ইউপি মেম্বাররা এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ধান কেটে নিয়ে যায়।

এলাকার নুর ইসলাম বলেন, মূলত: জমিটা বিক্রি করা হয়নি বলে দাবী মৃত আফাজ মেম্বারের সন্তানদের। তারা কাবুলের বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরীর অভিযোগ করেছে। এই বিষয় নিষ্পত্তি আদালত ছাড়া সম্ভব নয় এবং তা সময় সাপেক্ষ। তাই স্থানীয়ভাবে মিমাংসার উদ্যোগ নেন মেম্বার। কিন্তু কাবুল তা না মেনে ধান কাটায় বাধা দেয়ার মিথ্যে অভিযোগ দেয় থানায়। পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে এবং জমিতে উভয়পক্ষের প্রবেশে নিষেধ করেছে।

মিথ্যে অভিযোগের কারণে আফাজের ছেলেরা ক্ষিপ্ত হলেও মেম্বার ও পুলিশের কথায় সম্মত হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে নিরব থাকলেও আনছার নামে দালালের মাধ্যমে কাবুল উষ্কানী দেয়ায় চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়। এতে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষের কাগজ দেখানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু কাবুল তাতে টালবাহানা করায় এভাবে ধান কাটতে বাধ্য হয়েছে পরিষদ।

আহেদুল ইসলাম বলেন, মৃত আফাজ মেম্বার কখনই এত জমি বিক্রি করেনি। আমরা জানি জমিটা বন্ধক নিয়ে ভোগদখল করছে কাবুল। এখন সে যে দলিলমূলে জমিটি ক্রয় করার কথা বলছে তা ভূয়া। কারণ এই জমির দাগ নং ২৩ এবং তা নীলফামারী সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের চড়াইখোলা মৌজায়। আর কাবুলের জাল দলিলে দেখানো হয়েছে দাগ নং ২৫।

এই কারণে কাবুল যেমন আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেনা তেমনি ওই জমিতে তার নিজের লাগানো ধান কেটে নেয়া হলেও সে কোন বাধা দিতে আসেনি। তার পক্ষে একজন মানুষও নেই। মূলত: কাবুল ও আনসারসহ কয়েকজন এলাকায় জাল দলিল চক্র হিসেবে চিহ্নিত। তারা একের পর এক জাল দলিল তৈরী করে এলাকায় ঝামেলা পাকিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করতে অপতৎপরতায় লিপ্ত।

এব্যাপারে ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আজিজুল ইসলাম বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে ধান কাটা নিয়ে উভয়পক্ষের মাঝে রক্তারক্তির মত ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই ধানগুলো নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা ও মারামারি প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান লানচু হাসান চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবজাল হোসেন বলেন, মূলত: বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধানগুলো পরিষদের গোডাউনে থাকবে। আদালতের রায় বা স্থানীয়ভাবে মিমাংসায় যারা জমির মালিক হবেন তাদেরকে ধান বুঝিয়ে দেয়া হবে।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *