free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » ডিমলায় সরকারী নির্দেশনাকে অমান্য করে কোচিং বানিজ্য স্কুল শিক্ষকের: সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্চিত 

ডিমলায় সরকারী নির্দেশনাকে অমান্য করে কোচিং বানিজ্য স্কুল শিক্ষকের: সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্চিত 

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু:-

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী দুদিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্র রায় সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে অনায়াসে চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং বাণিজ্য, পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনে স্থানীয় দুই সাংবাদিক উক্ত কোচিং সেন্টারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন।

বুধবার বিকেল ৫টায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চাপানি বাজার সংলগ্ন ওই শিক্ষকের নিজ বাড়িতে কোচিং চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
মারধর ও লাঞ্ছিতের শিকার সাংবাদিক মামুন অর রশিদ বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাতে ডিমলা থানায় শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্র রায়ের নামে লিখিত অভিযোগ করেছেন।


উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে পরীক্ষা চলাকালীন সকল প্রকার কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন, কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের সরকারি সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পরীক্ষা শুরুর এক দিনে আগেও নিজ বাড়িতে কোচিং সেন্টারে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্র রায়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে ওই কোচিং সেন্টারে গেলে স্বদেশ চন্দ্রের হামলার শিকার হন দৈনিক আলোকিত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মামুন অর রশিদ ও দৈনিক একুশের বানী’র স্টাফ রিপোর্টার মশিয়ার রহমান।
এবিষয়ে হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণমাধ্যম কর্মী মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্রের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তিনি অনায়াসে কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন। সে সময় কোচিং সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করলে পঞ্চাশোর্ধ শিক্ষার্থী উপস্থিতির দেখা মেলে। এদের মধ্যে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীও রয়েছে।পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা না বলে দ্রুত সেই কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে সেই স্থান ত্যাগ করে। এরপর শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্রের কাছে কোচিং চালু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা কার অনুমতি নিয়ে এখানে এসেছেন ? এমতাবস্তায় তিনি কথা বলতে বলতে অতর্কিত ভাবে আমাদেরকে মারধরসহ লাঞ্ছিত করে আমাদের মোবাইল ফোন এবং ভিডিও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন। এবিষয়ে জলঢাকা উপজেলার সংবাদকর্মী মশিয়ার রহমান জানান, ক্যামেরা চলাকালিন সময় শিক্ষক স্বদেশ আমাকে এবং আমার সহকর্মী মামুনকে এলোপাথাড়ি কিল,ঘুষি ও মারডাং শুরু করে আমাদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মারতে মারতে রাস্তায় বের করে দেয়। এছাড়াও তিনি উপজেলার সকল সাংবাদিকদেরকে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এবিষয়ে শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করায় তার বক্তব্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি।


ঘটনার ব্যাপারে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বেলায়েত হোসেন জানায়, সরকারি আদেশ অমান্য এবং সাংবাদিকদের মারধরসহ লাঞ্চিত করার ঘটনায় ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে শিক্ষক স্বদেশ চন্দ্রকে জবাব দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকের উপর হামলার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

 

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *