free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » সৈয়দপুরের সরকারী ভাটির মদে গ্রামেগঞ্জে গড়ে উঠেছে মিনি ভাটি

সৈয়দপুরের সরকারী ভাটির মদে গ্রামেগঞ্জে গড়ে উঠেছে মিনি ভাটি

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের একমাত্র সরকারী ভাটির দেশীয় মদে সয়লাব হয়ে পড়েছে পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলা। প্রত্যন্ত গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ায় এবং সহজেই হাতের নাগালে পাওয়ায় শিশু কিশোররাও আসক্ত হয়ে পড়েছে এই নেশায়।

প্রকাশ্যে দিনের বেলায়ই চলছে মাদক সেবন। আর রাতে বসছে জমজমাট আসর। প্রশাসন নির্বিকার থাকায় দিন দিন বাড়ছে এর মাত্রা। ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চিহ্নিত কয়েকটি পয়েন্ট মিনি ভাটিতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত সুইপার, ডোম, মেথর, মুচি তথা হরিজন সম্প্রদায়সহ হিন্দু, খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী তথা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাদকসেবীদের জন্য সৈয়দপুর পৌরসভার নয়াবাজার সুরকী মহল্লায় রেলওয়ের ভাগাড় এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সরকারীভাবে দেশীয় মদভাটি।

মদ সেবনের লাইসেন্সধারীরা এখানে এসে জনপ্রতি প্রতিদিন এক লিটার থেকে সাড়ে ৩ লিটার পর্যন্ত মদ কিনতে পারবেন এবং তা ভাটি এলাকাতেই সেবন করবেন। কোনভাবেই তা বহণ করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যাবেনা।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে উৎসব পার্বণে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে ১০ লিটার মদ নিয়ে তা নিজ নিজ বাড়ি, পরিবারের সদস্যরা বা অনুষ্ঠান চত্বরে পান করা যাবে। তবে অবশ্যই তা পারিবারিক গন্ডির মধ্যে হতে হবে। কোনভাবেই যেন তা কারও অসুবিধার কারণ না হয় বা সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না করে।

এই নিয়মকে উপেক্ষা করে ভাটির মালিক যাচ্ছে তাই ভাবে মদ বিক্রি করছেন। সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত বিক্রির কথা থাকলেও ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচা কেনা। ফলে ওই এলাকায় দিনরাত মাদকসেবীদের আনাগোনায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

কারণ মদ খেয়ে মাতাল হয়ে পাড়ামহল্লার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অকথ্য গালিগালাজ করাসহ অশ্লীল আচরণ করায় পরিবেশ নষ্ট হওয়াসহ প্রতিবাদ করায় মারামারির ঘটনাও ঘটে। অনেকসময় মাতালদের উপদ্রবে সারারাত ঘুমাতেও পারেনা এলাকাবাসী।

একজন প্রতিমাসে সর্বোাচ্চ সাড়ে ৯ লিটার মদ কেনার নিয়ম। অথচ এখান থেকে ২০-৫০ লিটার পর্যন্ত মদ নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এরফলে উপজেলার হাজারীহাট, গোলাহাট, পোড়ারহাট, চৌমুহনী, চিকলী, উত্তরা আবাসন, হামুরহাট, চওড়াবাজার, খালিসা এলাকায় মিনি ভাটি গড়ে তুলেছে অনেকে।

ভাটিতে কোন রকম কার্ড প্রদর্শন ছাড়াই মদ বিক্রি করায় যে কেউ গ্রহন করতে পারছে এই মাদক। এই সুযোগে লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিরাও মদ নিচ্ছে এখান থেকে। পাশাপাশি অনেক কার্ডধারী নিয়মিত নেশা করেননা। দৈনিক সর্বোাচ্চ ৫০ থেকে ৭০ ভাগ কার্ডধারী মদ সেবন করে।

অথচ ভাটি মালিক প্রতিদিন সবগুলো কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত হারে মদ আনেন। অতিরিক্ত মদ ওইসব মিনি মদভাটি পরিচালনাকারীদের কাছে বিক্রি করে। প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে সকাল ৮ টার মধ্যে নিজ দায়িত্বে মাল পৌছে দেয়। এক্ষেত্রে মদে পানি মিশিয়ে পরিমাণ বৃদ্ধি করে অধিক মুনাফা করছে অবৈধভাবে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই কারবার চলছে দেদারছে।

শহরের মুন্সিপাড়া হরিজন পল্লীর লাল্লা নামের একজন বলেন, ভাটি মালিক রাজু বাবু আমাদের কার্ড রিনিউ করে দেয়ার নামে পুরনো কার্ড ও ভোটার আইডির ফটোকপি আর ছবি নিলেও আজ ৭-৮ মাস হলেও নতুন কার্ড দিচ্ছেন না। আমরা ভাটিতে আসলে বেশি মাল দিতে চায়না। আমাদের নামে মাল এনে আমাদেরই ভাগ মেরে দিয়ে বাইরে অকার্ডধারীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেন।

হাজারীহাট এলাকার হরিজন মানিক জানায়, রাবেয়া মিল এলাকার একজন রিক্সাওয়ালার মাধ্যমে মদ নিয়ে আসে এলাকার মন্ডল নামে এক ব্যক্তি। তার কাছ থেকে নিয়ে নিজেরাও খাই এবং বিক্রিও করি। আমার এখানে টুকটাক লোক আসলেও বাজারে মোবাইল টাওয়ারের নিচে মন্ডলের মিনি ভাটিতে সব বয়সী মাদকসেবীর দিনরাত সমাগম।

একই রকম অভিযোগ করেন, নতুন বাবুপাড়ার বাসিন্দা ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ভোলু। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আমাদের বিভিন্ন হরিজন পল্লীর নামে অনুষ্ঠান বা মৃত্যুর অজুহাতে অতিরিক্ত মাল আনে ভাটি মালিক। এই বেশি আনা মাল গোপনে বিক্রি করে দেন বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা মদ বিক্রির পয়েন্ট পরিচালনাকারীদের কাছে। অথচ আমাদের কেউ মারা গেলে বা উৎসব পার্বণে ফ্রি যে মদ দেয়ার নিয়ম আছে তা আমরা সঠিকভাবে পাইনা।

কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আব্দুল হক জানান, চিহ্নিত ব্যক্তিরা সিন্ডিকেট করে মিনি মদ ভাটি গড়ে তুলেছে হাজারীহাটে। প্রকাশ্যে চলছে মদ বিক্রি। এতে উচ্ছন্নে যাচ্ছে এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর যুবকরা। বেপরোয়া মাদক বিক্রি হলেও প্রশাসন নির্বিকার। হাতেনাতে ধরিয়ে দিলেও পুলিশ টাকা খেয়ে ছেড়ে দেয়। আর আবগারী বিভাগতো নকদন্তহীন। তাদের কোন তৎপরতাই নেই।

এব্যাপারে ভাটি মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা নেই বলে জানান। তার প্রতিনিধি ভলু বলেন, সব কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই আমরা ব্যবসা করছি। প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা না থাকলেও সাংবাদিকরা অযথা পেরেশান করছেন। কত লেখার আছে লেখেন। কিছুই হবেনা।

নীলফামারী জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা শরীফ উদ্দীন জানান, নিয়মানুযায়ী ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮ টা এবং ১৬ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১ টা থেকে রাত ৯ টা ভাটি খোলা থাকবে। প্রতিব্যক্তি মাসে সর্বোাচ্চ সাড়ে ৯ লিটার মদ কিনতে পারবে। এর ব্যত্যয় হলে অবশ্যই অবৈধ হবে। ভাটির বাইরে মদ বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *