free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়ি থেকে বিতারিত অসহায় বিধবা প্রাণভয়ে সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও প্রশাসন নির্বিকার

প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়ি থেকে বিতারিত অসহায় বিধবা প্রাণভয়ে সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও প্রশাসন নির্বিকার

 

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন দেবর ও তার ছেলেদের অনবরত অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজ বসত ভিটা থেকে বিতারিত অসহায় বিধবা ঝরনা বেগম।প্রতিপক্ষের অহর্নিশ প্রাণনাশের হুমকির ফলে নিজের ও সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দূর দূরান্তের আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি বাড়ি।

 

স্থানীয় ইউপি মেম্বার, চেয়াাারম্যান সহ থানায় অভিযোগ করলেও গত ৬ মাসে কোন সুরাহা না পেয়ে চরম দূরাবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ এবং সৃষ্ট বিবাদের সুবিচার দাবী করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩ টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদখানা ডোঙ্গা গ্রামের মৃত রশিদুল ইসলামে স্ত্রী ঝরনা বেগম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি পলাতক অবস্থায় তার বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে উত্তর চাঁদখানা নগরবান্ধ গ্রামে ননদের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সেখানে তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, জমি নিয়ে বিরোধে প্রায় ১০ বছর আগে আমার স্বামীকে দেবর ডাব্লু মিয়া, জাম্বু মিয়া ও আশরাফুল মিয়া নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। এঘটনায় তারা হাত পা ধরে মিমাংসা করতে বাধ্য করে। সেই সময়েই পৈত্রিক জমিজমা ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। সেইমতে আমরা আমাদের বসত ভিটাসহ নিজেদের জমি চাষ করে আসছি। চলতি বছরের প্রথম দিকে বসতভিটা সংলগ্ন ৪ শতক ডাঙা জমিতে বাড়ি সম্প্রসারণ ও সংষ্কারের উদ্যোগ নিলে তারা বাধা দেয়।

ঝরনা বেগমের বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জসিম উদ্দিন বলেন, আমার চাচারাসহ তাদের পরিবারের লোকজন প্রায়ই ঝগড়া বাধিয়ে আমাদেরকে নির্যাতন করে। ৬ মাস আগে বাড়ি মেরামতের জন্য ইট আনার পর তারা আরও বেপরোয়া আচরণ করছেন। অহেতুক ঝামেলা পাকিয়ে আমার মা ভাই বোনদের বেধড়ক মারপিট করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যান কে অভিযোগ করলে প্রতিপক্ষরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমাদেরকে অত্যাচার করে বাড়ি থেকে বিতারিত করেছে। ফলে প্রাণভয়ে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এমনকি চণ্ডীর বাজারসহ চাঁদখানা ও কিশোরগঞ্জ বাজারেও লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওৎপেতে থাকছে তারা। একারণে বাড়িতে ফেরা দূরের কথা কলেজ ও বাজারে যেতে পারছিনা।

এমতাবস্থায় গত ১৬ আগস্ট আমার মা বাড়ির অবস্থা দেখতে গেলে চাচা জাম্বু (৪৫), আশরাফুল (৫২), চাচী মাসুদা বেগম (৪০), মমতা বেগম (৪২), মিনু বেগম (৪৬) চাচাত বোন লাবমী আক্তার (২০) দলবদ্ধভাবে আটকিয়ে অসহনীয় নির্যাতন করে। এর প্রেক্ষিতে ওইদিনই
কিশোরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। পুলিশ এসে তদন্ত করে গেলেও আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছি। আমরা এর সুবিচার দাবী করছি।

জসিমের ফুফু এবং জাম্বু ও আশরাফুলের বড় বোন সাওদা বেওয়া বলেন, আমার ভাইয়েরা অমানুষ হয়ে গেছে। নৃত বড় ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। পৈত্রিক ভিটাতে বাড়ি করতে দিচ্ছেনা। প্রশাসনের কাছে বিচার চাওয়ায় মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি আশ্রয় দেয়ায় আমাকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। আমার ছেলের দোকানে এসে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। ছেলে সাজুসহ ভাতিজা-ভাতিজি ও ভাবীর কিছু হলে জাম্বু ও আশরাফুলরাই দায়ী থাকবে।

অভিযুক্ত আশরাফুলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কৃষিজমি নিয়ে কোন বিরোধ নেই। কিন্তু বসতভিটায় সবারই অধিকার আছে। বাঁশ টিনের ঘর করে ভোগদখল করে আসলেওতো স্থায়ী পাকা দালাল তুলতে পারেনা। কারন তারা একাই সামনের অংশ সবটুকু নিতে পারেনা। লম্বালম্বিভাবেই ৪ শতক জায়গা নিতে হবে। এতে বাড়ি করা সম্ভব না হলে আমাদের কিছুই করার নাই। মারপিট, বিতারিত করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যে বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রাজিব কুমার রায় বলেন, আমি নতুন এসেছি। এসংক্রান্ত কোন অভিযোগ বিষয়ে জানা নেই। তবে অভিযোগ করে থাকলে তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *