free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » সৈয়দপুরে ৪০ দিনের কর্মসূচীতে ব্যাপক অনিয়ম, প্রকৃত দুঃস্থরা বঞ্চিত, তীব্র ক্ষোভ

সৈয়দপুরে ৪০ দিনের কর্মসূচীতে ব্যাপক অনিয়ম, প্রকৃত দুঃস্থরা বঞ্চিত, তীব্র ক্ষোভ

 

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৪০ দিনের কর্মসূচীতে ব্যাপক অনিয়মের কারণে উদ্বোধনের দিনেই প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। লটারীতে টিকলেও তালিকায় নাম না থাকা, প্রকৃত দুঃস্থদের বাদ দিয়ে লটারীর বাইরে স্বচ্ছল লোকজনকে নেয়া, কোনরকম তালিকা, রেজিস্টার বই ও সর্দার নির্ধারণ ছাড়াই কাজ শুরু করা, নদীর মাটি কেটে সরকারী কাজে ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ও বঞ্চিতদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে।
এভাবে নানা অনিয়মের কারনে কাজের বিনিময়ে টাকা দিয়ে মঙ্গাকালীন কর্মহীন দুঃস্থ, অসহায় মানুষকে সহযোগীতা করার লক্ষ্যে সৃষ্ট সরকারী প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একে অপরকে দোষারোপ করে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রকৃত দরিদ্ররা ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বসুনিয়াপাড়া জানেরপাড় এলাকার ইব্রাহিম আলী, আব্দুল হামিজ, নুর ইসলাম, কাঠারী পাড়ার মজিবর রহমান জানান, ৪০ দিনের কর্মসূচীর জন্য আবেদন করা হলে লটারীর মাধ্যমে তাদের স্ত্রীদের নাম ওঠে।
সেকারণে তারা আশায় ছিল কাজ শুরু হলে তাদের জানানো হবে। কিন্তু সোমবার সকালে হঠাৎ দেখতে পাই বাড়ির পাশেই রাস্তায় মাটিকাটার কাজ করছে অন্য মানুষেরা। যাদের অর্ধেকই লটারীতে টেকাতো দূরের কথা অংশগ্রহণও করেনি।
এতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজের স্থলে গিয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম কাইল্ঠা নিজেকে সর্দার পরিচয় দিয়ে জানায় তালিকায় তাদের নাম নাই। লটারীতে নাম উঠলেও লিস্টে কেন নাই প্রশ্ন করলে সে বলে মেম্বার-চেয়ারম্যান জানেন।
এর প্রেক্ষিতে তারা ওয়ার্ডের মেম্বার আসগার আলী বাবলুকে মোবাইল করলে মেম্বার বলে চেয়ারম্যান নাম কেটে দিয়েছে। আবার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুনকে কল দিলে তিনি জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন একাজ করেছে। তাই তাদের পরিবর্তে নতুন লোক নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
এমতাবস্থায় কর্মবঞ্চিতরা উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এতে উক্ত চারজনসহ আরও অনেকে একইভাবে অভিযোগ করেন যে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে এবং এজন্য উপজেলা চেয়ারম্যানই দায়ী বলে প্রচার করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উপজেলা চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু হাসনাত সরকারকে মোবাইল করে লটারীতে ওঠা নাম বাদ দেয়া ও নতুন নাম দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কিছুই তো করা হয়নি। করে থাকলে তা চেয়ারম্যান মেম্বাররা করেছে হয়তো।
তাহলে এক্ষেত্রে কেন আমাকে জড়ানো হচ্ছে? আমি কি কারও নাম কাটা বা কাউকে নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছি? উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন প্রশ্নে পিআইও নিরব হয়ে যায় এবং নিজের অসুস্থতার কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দুইদিন সময় চান। এতে উপস্থিত লোকজন ও সংবাদকর্মীদের কাছে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভূমিকা পরিষ্কার হয়। এই প্রকল্পে তাঁর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান তিনি।
এসময় ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আসগার আলী বাবলু ঘটনাস্থলে আসলে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর চড়াও হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের শান্ত করেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। এতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসময় বাবলু মেম্বার নাম কাটা ও অন্যদের নেয়ার কথা  শিকার করে বলেন, পরবর্তীতে এটা সংশোধন করে নেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সবাইকেই কাজ দেয়া হবে।
এদিকে পাশের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও এমন অনিয়ম মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে জেনে সংবাদকর্মীরা শ্বাষকান্দর ভুল্লিপাড়ায় গেলে কাজ ছেড়ে কোদাল-ঝাঁপি ফেলেই পালিয়ে যায় মাটিকাটা কর্মীরা। এতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মহির উদ্দিনকে মোবাইলে কল দিলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে জানান, ইউপি চেয়ারম্যান কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়ায় তারা চলে গেছে। এখনই পরিষদে জরুরী মিটিংও ডেকেছেন তিনি।
এসময় ওই এলাকার আশরাফ আলী ও আব্দুল মজিদ জানান, তারাও লটারীতে টিকেছিল।কিন্তু আজ কাজের তালিকায় নাম নাই। অথচ লটারী ছাড়াই মেম্বার চেয়ারম্যান নিজেদের পছন্দের লোকদের গোপনে তালিকাভুক্ত করেছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডেই এমন ১৩ জনকে নেয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ টাকার বিনিময়েই এমন অনিয়ম করা হয়েছে।
কাঠারীপাড়ার আইজুলের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৫) আক্ষেপ করে বলেন, স্বামী অসুস্থ, চার মেয়ে ও এক ছেলে পৃথক। দেখার কেউ নেই।
মানুষের বাড়িতে কাজ করে চলি। দীর্ঘ দিন থেকে মাটিকাটার কাজ করি। তাই সরকারী অন্য কোন সুবিধা পাইনা। এবার আমাকে বাদ দিয়ে সামাদের ছেলে জনি, ওয়াহেদের ছেলে কেকা পাগলাকে নিয়েছে। অথচ তারা দশ টাকার চালের কার্ড ও ভাতাভোগী।
একই এলাকার মোসলেম জানান, বাবলু মেম্বার স্বচ্ছলদের কাজ দিয়েছে। এরা হলো হুগলীপাড়ার মজুমদারের ছেলে দিলিপ (চাল ব্যবসায়ী), মৃত ইসমাইলের ছেলে সাইদুর, মৃত তফদ্দীর ছেলে হাফিজুল, করোনার মোড়ের নজরুলের ছেলে জুয়েল ও কাঠারীপাড়ার সেলিমের ছেলে নয়ন।
এছাড়াও অনেকে আছে। সব মেম্বারই এভাবে নিজেদের লোককে ঢুকিয়ে প্রকৃত অসহায়দের ভাগ কেড়ে খাচ্ছে। সেইসাথে নদীর মাটি কেটে নামকাওয়াস্তে রাস্তায় বালু দেয়া হচ্ছে। এই মাটি-বালু সামান্য বৃষ্টি হলেই আবারও নদীতে ধুয়ে যাবে। তখন এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়বে।
বোতলাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুনকে মোবাইল করা হলে তিনি জানান, আজকে সরকারী ছুটির দিন হওয়ায় শুধু উদ্বোধন করে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। সব নিয়ম মেনেই কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
অনিয়মের ব্যাপারে তিনি বলেন, উপজেলা অফিস থেকে নাম কাটা হয়েছে। উপজেলা  চেয়ারম্যানের কথা আমি বলিনি। কাজের স্বার্থে নতুন লোক নেয়া হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান মেম্বারইতো লোক দিবে। তাই দেয়া হয়েছে। এদের কেউ স্বচ্ছল বা অন্য সুবিধা ভোগী নয়। থাকলে সংশোধন করা হবে।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *