free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » সৈয়দপুরে দেহ ব্যবসা ওপেন মেটার আবাসিক এলাকায় চলছে দেদারছে

সৈয়দপুরে দেহ ব্যবসা ওপেন মেটার আবাসিক এলাকায় চলছে দেদারছে

 

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ॥
নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর এলাকার প্রায় প্রতিটি আবাসিক পাড়া মহল্লায় চলছে দেদার দেহ ব্যবসা। প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই এই অবৈধ কারবার চললেও নেই কোন পদক্ষেপ। ফলে দিনে দিনে এর মাত্রা বেড়েই চলেছে। এতে পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উঠতি বয়সী কিশোর যুবকরাও জড়িয়ে পড়ায় উচ্ছনে যাচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ।

অনেকটা ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে পড়েছে এই অনৈতিক কর্মকান্ড। এলাকার সচেতন মহল এ ব্যাপারে উদ্যোগী হলেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা না পাওয়ায় বন্ধ করতে পারছেনা প্রকাশ্যে চলা এই অসামাজিক কার্যক্রম। আর এর প্রভাবে নানা অপরাধের প্রবণতাও বেড়েছে সৈয়দপুরে।

একটি সুত্র মতে, শহরের নতুন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া, সাহেবপাড়া, পুরাতন বাবুপাড়া, গোলাহাট, মুন্সিপাড়া, কয়ানিজপাড়া, আদানীর মোড়, ক্যান্টনমেন্ট খাটিয়া মহল্লা, নিচু কলোনী, হাওয়ালদারপাড়া, মুন্সিপাড়া, নিয়ামতপুর, বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া, হাতিখানাসহ প্রায় সব পাড়া মহল্লাতেই বাসা ভাড়া নিয়ে চালানো হচ্ছে দেহ ব্যবসা।

এসব বাসা বাড়িতে সৈয়দপুরের চিহ্নিত দেহ ব্যবসায়ী নারীরাসহ নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়েদের এনে একাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। এদের বেশিরভাগই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া।

একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই কারবার চালানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সেল্টার দিয়ে আর্থিক সুবিধা ভোগ করছে। এক্ষেত্রে বাবু, মামুন, জাহিদসহ নীলফামারীর দারোয়ানী এলাকার কয়েকজন যুবক বেশি সক্রিয়। তাদের নেতৃত্বে সৈয়দপুরের স্থানীয় দাপুটে ও বখাটে যুবকদের সহযোগিতায় চলছে এই ব্যবসা।

সম্প্রতি নতুন বাবুপাড়া মেথর পট্টি এলাকায় একটি বাড়িতে এমন অসামাজিক কাজ চলাকালে এলাকার সচেতন যুবকরা একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় হাতে নাতে আটক করে এক দম্পতিকে। এসময় রংপুর কারমাইকেল কলেজের এক ছাত্রীকে দিয়ে দেহ ব্যবসা চালানোর সত্যতাও পাওয়া যায়। আটকরা জানায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়েই তারা একাজ করছে।

এমনই আরেকটি বাসা রয়েছে পুরাতন বাবুপাড়ার শিরিস গাছ এলাকায়। এখানে মামুনের নেতুত্বে বাসা ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা করছে নীলফামারী বাবড়িঝাড় এলাকার কয়েকজন নারী। বিউটি নামে এক মহিলা এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে।

একইভাবে ইসলামবাগ এলাকায় ফিদা আলী ইন্সটিটিউট সংলগ্ন একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছে নুর হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ি এর দেখভাল করছেন। পাশেই একটি পার্ক থাকায় উঠতি বয়সী যুবক তরুণরাও ওই বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে আসার অজুহাতে এখানে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কতিপয় যুবক কাস্টমার কালেকশন কাজে নিয়োজিত। তারা পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে টার্গেট করে ওই মিনি পতিতালয়ে নিয়ে যাচ্ছে আগ্রহীদের।

এদিকে সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই কারবারের নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাথী, , মনি, বিউটিসহ কয়েকজন নারী আগ্রহীদের এই মার্কেটে ডেকে নিয়ে কন্টাক্টের পর পাড়া মহল্লাগুলোর বাসা বাড়িতে নিজেরাই পৌছে দিচ্ছে। নিজ আত্মীয় বন্ধু পরিচিতজন পরিচয়ে তাদের বাসায় নিয়ে কাজ শেষে নিরাপদে সরিয়ে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দালালরা। তাছাড়াও কয়েকটি আবাসিক হোটেলেও চলছে এই কারবার।

অন্য এলাকাগুলোতেও সমানতালে চলছে এহেন কারবার। এসব বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের বিট কর্মকর্তারা অবগত থাকলেও তারা প্রতিরোধে কোন পদক্ষেপ নেননা। সূত্রের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই তাদের কাজ চলছে দেদারছে।

এমনকি বিষয়টি এলাকার ছোট ছোট শিশু কিশোরসহ পাড়া মহল্লার নারীদের মাঝেও জানা শোনা ব্যাপার। এতে ওই তরুন কিশোররাও কৌতুহল বশত জড়িয়ে পড়ছে। এতে অভিভাবকদের মাঝে চরম অস্থিরতা কাজ করে। চোখে চোখে রাখতেও এই ফাঁদে পা দিচ্ছে অনেকে। এর ফলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ সৈয়দপুরবাসী।

প্রকাশ্যে এমন কারবার চলায় মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে গেছে। কারণ এসব মিনি পতিতালয়ে আগত বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে অভিজাত শ্রেনীর লোকজনের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ও বিভিন্ন বেআইনী কাজে জড়িতরাও রয়েছে। ফলে তাদের আগমনে এলাকায় ওইসব অপরাধের প্রতিও ঝোঁক বাড়ছে এলাকার ছেলেদের। এতে দেখা দিয়েছে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি। তাই তারা এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে কেউ লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ করেননি। সুনির্ধিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কোন ধরণের অবৈধ কারবার বন্ধে পুলিশ সদা প্রস্তুত।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *