free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে সৈয়দপুর  রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, চরম সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম

মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে সৈয়দপুর  রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, চরম সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট। মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। তারও একজন মাতৃভাষা শিক্ষক ও আরেকজন ল্যাব সহকারী। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম।
রেলওয়ের এ বিদ্যালয়ে ২০ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। তাও সহকারী শিক্ষক। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকতো দূরের কথা দীর্ঘ ৬ বছর থেকে নেই প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক। ফলে পাঠদানসহ সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৮৭০ সালে সৈয়দপুরে গড়ে ওঠে রেলওয়ে কারখানা। সেখানকার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার জন্য ওই বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। সে সময় বিদ্যালয়টি ছিল ইংলিশ মিডিয়াম। তাই অনেকেই এটিকে ইংলিশ স্কুল নামে চেনে। অতীতে এ অঞ্চলে বিদ্যালয়টির  সুনাম ও খ্যাতি ছিল ঈর্ষণীয়। শুধুমাত্র শিক্ষক সংকটে তা আজ হারিয়ে গেছে।
অবকাঠামোগত সকল সুযোগ-সুবিধাসহ বিদ্যালয়টিতে রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ। তবুও কোনোরকমভাবে ধুকে ধুকে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, মৌলভী, পন্ডিতসহ দীর্ঘদিন থেকে ১৫ জন শিক্ষকের পদ শূন্য। নেই উচ্চমান ও অফিস সহকারী। সব মিলিয়ে ২৮ জনবলের বিপরীতে এখানে কর্মরত আছেন ১০ জন।
একসময় এখানে ২০০০-২৫০০ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করত। ফলাফলের দিক থেকেও উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল শীর্ষে। কিন্তু নানা সংকটে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪০৫। এসএসসি পরীক্ষার্থী এবছর ৭২ জন।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, রসায়নের শিক্ষক না থাকায় এই বিষয়ে একটি দিনও ক্লাস হয়নি। তাই কিভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। একই অবস্থা বিজ্ঞান বিভাগের অন্য বিষয়গুলোসহ সকল শ্রেণীর গণিত বিষয়ে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, বিদ্যালয়টি রেলওয়ে মন্ত্রলনালয়ের অধীন। পূর্বে রেলওয়ে বিভাগ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেন। কিন্তু এখন সরকারী কর্মকমিশন থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। জনবল কাঠামোর ক্ষেত্রে রেল ও কর্ম কমিশনের আইনি জটিলতায় নিয়োগ কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। একারণে বিগত প্রায় ১৭ বছর যাবত নতুন কোন নিয়োগ হয়নি।
তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবুও আমি আসার পর ২৫০ এর স্থলে এখন প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্র ছাত্রী হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় ইচ্ছে সত্বেও প্রয়োজনমত পাঠদান সম্ভব হচ্ছেনা। তারপরও অস্থায়ীভাবে কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। স্কুলের সভাপতি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএসডাব্লু) সাদেকুর রহমান বিষয়টি তত্বাবধান করছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, অবকাঠামোগত সমস্যায়ও আমরা ভুগছি। স্কুলের সবগুলো ভবনই শতবর্ষের পুরাতন। এগুলো সংষ্কারের অভাবে ব্যবহার অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মাত্র একটি নতুন ভবন। আর পুরাতন মূল ভবনটি কোনরকম মেরামত করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটি ডিপার্টমেন্টের কোন সুযোগই আমরা পাইনা রেলওয়ের প্রতিষ্ঠান হওয়ায়। এক্ষেত্রেও জরুরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য প্রভাষক আব্দুল হাফিজ হাপ্পু বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের অবস্থা খুবই নাজুক। বিশেষ করে শিক্ষক সংকটের বিষয়টা অবর্ণনীয়। মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে কি ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব? তাও আবার ল্যাব সহকারী আর মাতৃভাষা শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, বিষয় ভিত্তিক সহকারী শিক্ষক, বিজ্ঞান বিষয়ের কোন শিক্ষক ছাড়াই চলছে দীর্ঘ ৫ বছর যাবত। এটা চরম করুণ পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। রেলওয়ে ও শিক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সেখানে সৈয়দপুর রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন বেহাল দশায় ভিষণ দুঃখ হয়। এই অবহেলিত অবস্থার উত্তরণে শিক্ষা ও রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *