free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » সৈয়দপুরে অনৈতিক কাজকালে আটক ৩ যুবকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, রেস্টুরেন্ট সীলগালা

সৈয়দপুরে অনৈতিক কাজকালে আটক ৩ যুবকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, রেস্টুরেন্ট সীলগালা

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: 

সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটের রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে প্রশাসন আবার অভিযান চালিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মে) দুপুর ২ টায় সৈয়দপুর থানা কর্তৃক এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসময় ‘ফ্রেন্ডস জুসবার’ থেকে ৩ জোড়া কপোত-কপোতী কে আটক করে। পরে আটক ৩ ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে দ্বন্ড প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু মেয়ে ৩ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, এস আই সাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে নিয়মিত টহলকালে প্লাজা মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘ফ্রেন্ডস জুসবার’ নামক ফাস্টফুড দোকানে আধো আলো আধো অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে অপ্রীতিকর অবস্থায় কয়েকজন ছেলে-মেয়েকে দেখতে পায়। পুলিশ ওই দোকানে ঢোকামাত্রই মালিক আকতার হোসেন পালিয়ে যায়।
এমতাবস্থায় ৩ জন ছেলে ও ৩ জন মেয়েকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। পরে মেয়ে ৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং ছেলে ৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেয়া হয়। এরা হলো দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটের হামিদুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল (১৯),  একই এলাকার মো. সাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. সোহান (২১) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রোস্তম আলীর ছেলে মহিম ইসলাম (২৭)।
সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহামুদুল হাসান আটক ছেলেদের মধ্যে আশরাফুল ও সোহান কে ৩ দিনের এবং মহিম ইসলামকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে পুলিশ গ্রেফতারকৃত ৩ জনকে নীলফামারী জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে।
অন্যদিকে ‘ফ্রেন্ডস্ জুসবার’ মালিক পলাতক থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা করে বন্ধ করে দেয়া হয়। দোকান মালিক আখতার হোসেন সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটের সিকিউরিটি ইনচার্জ এবং আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই সুযোগে ও দাপটে তিনি এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগে এই আখতারের নেতৃত্বেই অন্যান্য রেষ্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানগুলো খাদ্য সামগ্রীর পরিবর্তে ‘টাইমপাস’ বাণিজ্যে মত্ত। তার প্রশ্রয়েই মার্কেটে চলছে মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের ছিনতাই ও অপহরণ কারবার। স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে সমঝোতা করেই এই অনৈতিক কাজ চালানো হয়।
সম্প্রতি একটি রেস্টুরেন্টে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী স্কুলছাত্রী প্রেমিক কর্তৃক জোরপূর্বক ধর্ষনের ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তৎপর হওয়ায় ওই প্রেমিক সহ সৈয়দপুর প্লাজার দুইজন রেস্টুরেন্ট মালিক গ্রেফতার হয়। তাদের একজন ফুড প্যালেস’র মালিক মাহিন আহমেদ প্রান্ত ও অন্যজন দুবাই রেস্টুরেন্ট মালিক ওয়াহিদ।
কয়েকদিন আগে প্রান্ত জামিনে বেড়িয়েই আবার শুরু করে এই অনৈতিক কারবার। গত বৃহস্পতিবার সেখানে অভিযানকালে বাংলাদেশ আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (BAUST) ছাত্র জুলকারনাইন ও ছাত্রী ফারহানা জান্নাত বৃষ্টিকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পায় পুলিশ।
এই ঘটনায় ছাত্র জুলকারনাইন ও ফুড প্যালেস মালিক প্রান্তকে আটক করে পুলিশ। ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর প্রান্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোকান বন্ধ করে দেয়ার মুচলেকা এবং ২০০ টাকা জরিমানা দেয়। এর মাত্র ৫ দিনের মাথায় আবারও কপোত-কপোতি আটকের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আজকের ঘটনাস্থল ‘ফ্রেন্ডস জুসবার’র পার্টনার ধর্ষণ মামলায় আটক সেই ওয়াহিদ। তাই দাবী উঠেছে ওয়াহিদ ও আখতার হোসেনকেও আইনের আওতায় আনা হোক।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *