free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » সৈয়দপুরে পৌর কাউন্সিলর শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও ননদদের অত্যাচারে বিয়ের ৩ মাসেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ঘরছাড়া

সৈয়দপুরে পৌর কাউন্সিলর শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও ননদদের অত্যাচারে বিয়ের ৩ মাসেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ঘরছাড়া

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: প্রেম করে বিয়ে, যৌতুক দিয়ে সংসার। তারপরও মানসিক নির্যাতনের শিকার। এমন পরিস্থিতিতেও স্বামীর ভালোবাসা আঁকড়ে ধরে চলছিল দিন। তারপরও শেষ রক্ষা হলোনা। অতিরিক্ত যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শারীরিক নির্যাতন। ধৈর্যের বাধ ভেঙে পড়ায় আত্মসম্মান বোধ আর নিজের জীবন বাঁচাতে ছাড়তে হলো স্বামীর ঘর।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এমনই ঘটনা ঘটেছে সোমবার (৯ মে) সকালে। শহরের বাঁশবাড়ী সাদরা লেন এলাকায় পৌর কাউন্সিলর শ্বশুর পরিবারের লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরছাড়া হয়েছেন মাস্টার্স পড়ুয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর শ্বাশুড়ী ও ননদদের অমানবিক মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
বিয়ের দিন থেকেই অবিরাম অপমানমূলক কটু কথা আর যৌতুকের দাবীর খোটা এবং মোবাইল কেড়ে নেয়া ও মায়ের বাড়ি যাওয়া, যোগাযোগ বন্ধ করার পরও শুধু স্বামীর ভালোবাসার কারণে মুখ বুঝে সব সহ্য করে আসলেও আজ অসহ্য শারীরিক নির্যাতনের  ফলে স্বামীর ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে সে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মৌসুমী জানায়, দীর্ঘ ৭ বছর প্রেম করে ৩ মাস আগে পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয়েছে তার। প্রেমিক স্বামী শাহাজাদা পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মঞ্জুর হোসেনের বড় ছেলে।
আর্থ-সামাজিক দিক থেকে শ্বশুর পরিবারের সাথে তাদের ব্যাপক ব্যবধান সত্বেও শুধুমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে শত সমস্যার মধ্যেও প্রচুর অর্থ খরচ করে বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন সামান্য পান দোকানদার বাবা।

 
এর মধ্যে ছেলের পরিবারের দাবী অনুযায়ী বিভিন্ন আসবাবপত্র দেয়া এবং বিয়ের দিন ঠিক করা, হলুদ অনুষ্ঠান ও ৫ শতাধিক বরযাত্রীর মেহমানদারি করা হয়েছে। অথচ পূর্বেই আলোচনা হয়েছিল যে, যারা যা দিবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকবে উভয় পরিবার। 
 
কিন্তু তবুও তারা ২শ’ জনের স্থলে ৫শ’ জন এবং আলোচনার বাইরেও বিভিন্ন জিনিস দাবী করে। এতে ওয়াশিং মেশিন, টিভি ফ্রিজ, ওভেনসহ আরও বাড়তি সামগ্রী দিতে হয়েছে। তবুও শ্বশুর বাড়ির লোকজন সন্তুষ্ট নয়।
এখন দাবী করছেন একটি মোটর সাইকেল। যা কখনই আলোচনা করা হয়নি। বিয়ের পরে হঠাৎ করে এমনভাবে অতিরিক্ত যৌতুক চাওয়ায় তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি মৌসুমীর পরিবারের পক্ষে। এতেই শুরু হয়েছে গালিগালাজসহ নোংরা ভাষায় নানা কটাক্ষ করা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের মানসিক নির্যাতন।
মৌসুমী আরও বলেন, বিয়ের দিনই শ্বশুর আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে। সেদিন থেকেই আমাকে বাড়িতে একপ্রকার গৃহবন্দি করে রেখেছে। নিয়মানুযায়ী দূরের কথা গত ৩ মাসে একবারও আমাকে মায়ের বাড়ি যেতে দেয়নি।
এমনকি স্বামীর সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া অথবা কোন বিয়ের বা অন্যকোন উৎসবে অনুষ্ঠানেও যেতে দেয়নি। অথচ তারা (শ্বাশুড়ী, ননদ) সচরাচর যাচ্ছে। গত ঈদুল ফিতরেও মা বাবার সাথে দেখা করতে দেয়নি।
তাদের এমন আচরণেই আমি বুঝতে পেরেছি তারা আমাকে পছন্দ করেনা। শুধুমাত্র ছেলের কারণে সম্পর্ক মেনে নিয়ে সামাজিকতা রক্ষার্থে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক বিয়ে দিয়েছে। আর এখন কথায় কথায় ছোটলোক, ফকিন্নি বলে অপমান অপদস্ত করে চলেছে। মোটর সাইকেল পেলেও তারা একই আচরণ করবে।
তাই আমার বাবা মা কোনদিনই মোটর সাইকেল দিবেনা বা দিলেও আমি দিতে দিবনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়ায় এখন শুরু হয়েছে শারীরিক নির্যাতন। আজ (সোমবার) সকালে আমার স্বামীকে এনিয়ে অভিযোগ দিলে চরম বিশৃঙ্খলা শুরু করে পুরো পরিবার।
এর প্রেক্ষিতে শাহাজাদা আমাকে বাঁশবাড়ী সাদ্দাম মোড় এলাকায় তার ফুফুর বাসায় নিয়ে যায়। অনিচ্ছা সত্বেও কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার আশায় সেখানে যাই। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হয় আমার ৩ ননদ। তারা এসেই আমার উপর চড়াও হয়। বেধড়ক মারপিট করে।
এসময় আমার শ্বশুরও তাদের সাথে যোগ দেয়। এতে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই তাদের হাত থেকে রেহাই পেতে অনেকটা বেপরোয়া হয়েই ছিটকে বেড়িয়ে পড়ি এবং উদ্ভ্রান্তের মত বাস টার্মিনালে চলে যাই। সেখান থেকে কে বা কারা আমাকে এখানে (বাবার বাসায়) এনেছে।
এদিকে এরই মাঝে প্রচার করা হয়েছে আমি কোন ছেলের সাথে পালিয়েছি। কতটা নোংরা মন মানসিকতা তাদের। আমি দিনাজপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অর্থনীতিতে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। আমাকে তারা ফাইনালের ফরম ফিলাপও করতে দেয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে মৌসুমী বলেন, নির্যাতন ও অপমানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেইনি। কারণ, এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। আমি আর ওই পরিবারে যাবোনা। তবে তারা যদি বাড়াবাড়ি করে তাহলে হয়তো শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু শাহাজাদা আমাকে ভালোবাসে এবং সে এখন পর্যন্ত সেরকম খারাপ আচরণ করেনি। তাই সে যদি অন্যত্র আমাকে নিয়ে সংসার করে তাহলে তার কাছে ফিরে যাব। নয়তো ডিভোর্স দিয়ে আমার শিক্ষাজীবন শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াবো।
মৌসুমীর পরিবারের লোকজন বলেন, একজন কাউন্সিলরের বাড়ির সদস্যরা এতটা জঘন্য হয় কি করে? তারা আমাদের কে মানুষই মনে করেনা। নানাভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। আমাদের পদে পদে অপমান করতে সচেষ্ট।
ছেলেকেসহ আমাদের মেয়েকেও একমূহুর্তের জন্য বাপের বাড়িতে আসতে দেয়নি। যৌতুকের জন্য মৌসুমীকে অকথ্য মানসিক অত্যাচার করে চলেছে। প্রতিক্ষণ গালিগালাজ আর কাজের তাগাদা দিয়ে তটস্থ রেখেছে। এমনকি বিশ্রাম নেয়ার সময়ও নানা অজুহাতে ঘরে ঢুকে বিব্রত করেছে। আর আজ শারীরিকভাবেও মারপিট করে জখম করেছে। এর বিচার চাই।
এদিকে ঘটনাটি শহরজুড়ে চাউর হয়ে পড়েছে। এর প্রেক্ষিতে মৌসুমীর শ্বশুর পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ মঞ্জুর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইলে বলেন, এই ব্যাপারে আমি কিছুই বলবোনা। আমার ছেলের ব্যাপার সেই সব বলবে। আমার সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই।
আপনার স্ত্রী ও মেয়েরা নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করলেও আপনি কোন প্রতিবাদ করেননি এবং আজ আপনিও মারধর করেছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপনার মন্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ফোন রেখে দেন।
একইভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান স্বামী শাহাজাদা গার্মেন্টস’র মালিক সৈয়দ শাহাজাদা। তাকে বাড়িতে না পেয়ে মোবাইলে কল করে জানতে চাইলে বিষয়টি পারিবারিক বলে ফোন কেটে দেয়। পরে বার বার যোগাযোগ করা হলেও সে আর কল রিসিভ করেনি।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *