free
hit counter
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » নীলফামারীর খবর » ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়ে সরগরম সৈয়দপুরের বিনোদন পার্কগুলো

ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়ে সরগরম সৈয়দপুরের বিনোদন পার্কগুলো

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
কেউ এসেছেন বন্ধুবান্ধবদের সাথে আবার কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। এভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে নানান বয়সী দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিনোদন পার্কগুলো। তিল ধারণের ঠাঁই নেই যেনো। সরেজমিনে শহরের থিম পার্ক, রংধনু পার্ক ও পাতাকুঁড়ি পার্কে গিয়ে এমনি চিত্রই দেখা গেছে গত তিনদিন।
আগত দর্শনার্থীরা বলছেন, করনোর কারণে বিগত দুই বছর স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় এতদিন মনখুলে ঘোরা হয়নি। তাই এবার সকলকে নিয়েই বেড়িয়ে পড়েছেন অনেকে।
সৈয়দপুরে বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেছে তিনটি বিনোদন পার্ক। এগুলো হচ্ছে রংধনু পার্ক, থিম পার্ক ও পাতাকুঁড়ি পার্ক। এসব বিনোদন পার্ক নারী-পুরুষ ও শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে রাত অবধি এসব পার্ক খোলা থাকায় চিত্ত বিনোদনের চাহিদা মেটাচ্ছেন নানা বয়সি মানুষ।
শহরের অদূরে সীমান্ত ঘেষে প্রাকৃতিক পরিবেশে এসব পার্ক গড়ে উঠায় এবং যোগাযোগ সহজ হওয়ায় সব শ্রেণির মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন পার্কগুলোতে। ঈদ আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বিনোদনে ভরপুর সময় কাটছে সারাদিন।
শহরের থিম পার্কে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে এসেছেন রবিউল হাসান। তিনি বলেন, প্রচুর জনসমাগমের কারণে টিকিট কেটে গেটে ঢুকতেই অনেক সময় লেগেছে। প্রতিটি রাইডে খুব ভিড়। তবে অনেকদিন পর এমন ঘুরাঘুরিতে বেশ খুশি তিনি।
শহরের ভেতরে ইসলামবাগ রসুলপুর এলাকায় ছোট্ট পরিসরে গড়ে উঠেছে থিম পার্ক। পার্কে কথা হয় গাইবান্ধা থেকে পার্কে ঘুরতে আসা আবুলবাশার ও জিনিয়া দম্পতির সাথে। তারা জানান, অনেক দিন ঘরবন্দি জীবন কেটেছে। এখন যেনো মুক্ত।
তাই পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছি পার্কে। খুবই ভালো লাগছে। আমাদের সন্তানেরা অনেক আনন্দ পেয়েছে। বিশেষ করে সুইমিং পুলে খুব সময় ব্যয় করেছি আমরা। ভবিষ্যতে তারা আবারও আসবেন বলে জানালেন।
ডোমার থেকে আগত ‘হৃদয়ে ডোমার’ নিউজ পোর্টালের সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম আপেল ও ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ ফেসবুক পেজের এডমিন নওশাদ আনসারী জানান, এই পার্কে খেলাধূলার নানা আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। সেই সাথে এখানে পিকনিকের ব্যবস্থাও করা যায়। ছিমছাম এই পার্কটি ইতোমধ্যে সকলের নজর কেড়েছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ সেমিনারও এই পার্কে হয়ে থাকে।
সৈয়দপুর শহরের কুন্দল এলাকায় মহাসড়কের পাশে অনেকটা দ্বীপের মতো এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে রংধনু পার্ক। শিশুদের মনোরঞ্জনের যথেষ্ঠ ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে পশু-পাখিসহ নানা স্থাপনা। কিছু সময়ের জন্য অনেকে হারিয়ে যান এই জায়গায় এসে।
এই পার্কে আসা রাজধানী ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে শ্বশুর বাড়িতে ঈদ করতে আসা সাফাত বিন হাবিব নামে ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আইটি বিভাগের কর্মকর্তা ও জানান, জন্ম ও পারিবারিক সূত্রে ঢাকাতেই বসবাস। দেশের প্রায় সব বড় বড় বিনোদন পার্ক ও কিডস্ জোন, ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক স্থানগুলো ভ্রমনের সুযোগ হয়েছে।
সেই অভিজ্ঞতার আলোকে সৈয়দপুরের তিনটি পার্কই বেশ ভালো লেগেছে। কারণ এত স্বল্প পরিসরে এমন সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো আয়োজন খুবই দৃষ্টিনন্দন। পার্কের পরিবেশ খুবই ভালো। রাইডের দামও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অনেক শিশু-কিশোর এসব রাইডে চড়তে পারছেন। তাঁর সাথে স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা কণা ও একমাত্র সন্তান জিহান (৭) ছিল।
একই রকম অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের তোকদারপাড়া থেকে আগত কলেজছাত্রী আনিকা আহমেদ সুমনা। সে ছোট বোন আরিবা আহমেদ মাশিয়াত (৫) কে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন থিমপার্কে। বিশৃঙ্খলামুক্ত ও শান্ত পরিবেশের জন্য সে প্রশাসন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।
শহরের একটুখানি বাইরে সৈয়দপুর বাইপাস সড়কে গড়ে উঠেছে পাতাকুঁড়ি বিনোদন পার্ক। এখানে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে বাঘ, ভল্লুকসহ বিভিন্ন জীবজন্ত। আছে পুকুরে নৌকা ভ্রমনের সুযোগ। এই পার্কটি বেশ ভালোই চলছে বলে জানান পার্ক কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে সৈয়দপুরের তিনটি বিনোদন পার্ক দর্শকদের টানছে। করোনাকালে প্রায় ২ বছর বন্ধ থাকার পর এসব বিনোদন পার্ক চালু হওয়ায় পার্ক মালিক, কর্মচারী ও দর্শকদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।
শহরে থিম পার্কের ব্যবস্থাপক আব্দুল খালেক জানান, পার্ক এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত। গত ২ বছর করোনাকালে পার্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন-ভাতা দিতে হয়েছে। কাউকে ছাটাই করা হয়েছে।
এখন সরকারি বিধিনিষেধ নেই। তাই পার্কের নষ্ট জিনিসপত্র মেরামত করে ব্যবহার উপযোগি করে তোলা হয়েছে। প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন প্রতিদিন।  আশাকরি, পূর্বের ঘাটতি এবার মেটাতে পারবো আমরা। এখন যেভাবে ব্যবসা চলছে এভাবে ব্যবসা চললে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম হুসাইন জানান, স্থানীয় এসব বিনোদন পার্ক কিছুটা হলেও মানুষের চিত্ত বিনোদনের চাহিদা মেটাচ্ছে। সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী ও নীতি নৈতিকতা মেনে পার্কগুলো চলছে কিনা তা তদারকি করছে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

Check Also

ডোমারে এ.এন. ফাউন্ডেশনের মেধা মূল্যায়ন পরিক্ষা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

  ডোমার (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর ডোমারে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ.এন. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *